হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও অ্যাটাক হলে দ্রুত যে কাজগুলো করবেন
যে কোন সময় হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বর্তমানে হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। যতই দিন যাচ্ছে ততই এই রোগটি যেন মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ শুধু উন্নত বিশ্বে নয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ও হার্টের রোগী এতো পরিমাণে বাড়বে যে, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের হার্টের সমস্যা থাকবে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রমের দিকেও নজর দিতে হবে। তাছাড়া হার্ট অ্যাটাক হলে প্রত্যেকেরই কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার। আপনি একা থাকা অবস্থায় যদি আপনার হার্ট অ্যাটাক হয় কিংবা অন্য যে কোন সময় যদি হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে আপনি কি করবেন? চলুন তাহলে যেনে নেয়া যাক কি কারনে হয় হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষণ ও করণীয় তার বিস্তারিত-
হার্ট এ্যাটাকের কারন কি ?
হৃদরোগের অনেক কারন আছে। প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য আমরা এখানে প্রধান প্রধান কিছু কারন উল্লেখ করলাম
১. অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
২. মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
৩. রক্তে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্টরেল এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।
৪. খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
৫. তামাক (বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) মদ খাওয়া।
৬. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি।
এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিককর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের ফলে অনেক সময়ইঃ
* রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
* হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায়।
* রক্তের (ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয় ।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কয়েকটি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুক ভার হয়ে আসা, পেটের ওপরের অংশে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করা, বাঁ হাত ব্যথা, চোয়াল ও ঘাড় ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট।
হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও ঘাম হওয়া। বুকে প্রচণ্ড চাপও অনুভব করা। মনে হতে পারে, বুক যেন ভেঙে আসছে।
হার্ট অ্যাটাক হলে পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় বুকব্যথার লক্ষণ দেখা দেয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, চোয়াল ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হয়।
প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের এসব লক্ষণ দেখা যাওয়ার পরও বিষয়টিকে এড়িয়ে যান অনেকে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটা খুব জরুরি।
হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে করণীয়
হার্টের যে ব্লক তৈরি হয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ব্লক তৈরি হওয়া প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মানতে হবে। প্রতিদিন আধাঘণ্টা হতে এক ঘন্টা নিয়মিত হাঁটতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। মদ্যপান করলে ছেড়ে দিতে হবে। যদি পরিবারের কার ও হার্টের রোগ হওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে সচেতন হতে হবে। চল্লিশের ওপরে গেলেই আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। আর হার্টের রোগ হয়ে গেলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে।
অ্যাটাক হলে করণীয়
রোগী যদি একা থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন দেখা দেয় তখন কী করনীয়।
জোরে জোরে কাশি দেওয়া
আপনি যা করবেন তা হচ্ছে জোরে জোরে কাশি দিবেন। জোরে জোরে কাশি দিলে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়।
এসপিরিন খান
এসপিরিন খেলে উপকার হয়। এসপিরিন জাতীয় ঔষধ রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। এ সময় পাশের লোকটিকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। কাছাকাছি অবস্থান করছে এমন কাউকে ফোন করুন এবং আসতে বলুন। অবস্থা খারাপ হলে রোগীকে সমান জায়গায় শুইয়ে বুকের ওপর বারবার চাপ দিতে হবে যাতে হার্টে পাম্প হয়। দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
টিউনটি একটু বড় হয়ে গেল তাই কথা না বাড়িয়ে আজ এখানেই শেষ করলাম । সবাই ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন ।
যে কোন সময় হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বর্তমানে হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। যতই দিন যাচ্ছে ততই এই রোগটি যেন মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ শুধু উন্নত বিশ্বে নয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ও হার্টের রোগী এতো পরিমাণে বাড়বে যে, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের হার্টের সমস্যা থাকবে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রমের দিকেও নজর দিতে হবে। তাছাড়া হার্ট অ্যাটাক হলে প্রত্যেকেরই কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার। আপনি একা থাকা অবস্থায় যদি আপনার হার্ট অ্যাটাক হয় কিংবা অন্য যে কোন সময় যদি হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে আপনি কি করবেন? চলুন তাহলে যেনে নেয়া যাক কি কারনে হয় হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষণ ও করণীয় তার বিস্তারিত-
হার্ট এ্যাটাকের কারন কি ?
হৃদরোগের অনেক কারন আছে। প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য আমরা এখানে প্রধান প্রধান কিছু কারন উল্লেখ করলাম
১. অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
২. মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
৩. রক্তে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্টরেল এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।
৪. খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
৫. তামাক (বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) মদ খাওয়া।
৬. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি।
এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিককর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের ফলে অনেক সময়ইঃ
* রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
* হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায়।
* রক্তের (ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয় ।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কয়েকটি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুক ভার হয়ে আসা, পেটের ওপরের অংশে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করা, বাঁ হাত ব্যথা, চোয়াল ও ঘাড় ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট।
হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও ঘাম হওয়া। বুকে প্রচণ্ড চাপও অনুভব করা। মনে হতে পারে, বুক যেন ভেঙে আসছে।
হার্ট অ্যাটাক হলে পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় বুকব্যথার লক্ষণ দেখা দেয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, চোয়াল ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হয়।
প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের এসব লক্ষণ দেখা যাওয়ার পরও বিষয়টিকে এড়িয়ে যান অনেকে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটা খুব জরুরি।
হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে করণীয়
হার্টের যে ব্লক তৈরি হয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ব্লক তৈরি হওয়া প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মানতে হবে। প্রতিদিন আধাঘণ্টা হতে এক ঘন্টা নিয়মিত হাঁটতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। মদ্যপান করলে ছেড়ে দিতে হবে। যদি পরিবারের কার ও হার্টের রোগ হওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে সচেতন হতে হবে। চল্লিশের ওপরে গেলেই আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। আর হার্টের রোগ হয়ে গেলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে।
অ্যাটাক হলে করণীয়
রোগী যদি একা থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন দেখা দেয় তখন কী করনীয়।
জোরে জোরে কাশি দেওয়া
আপনি যা করবেন তা হচ্ছে জোরে জোরে কাশি দিবেন। জোরে জোরে কাশি দিলে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়।
এসপিরিন খান
এসপিরিন খেলে উপকার হয়। এসপিরিন জাতীয় ঔষধ রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। এ সময় পাশের লোকটিকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। কাছাকাছি অবস্থান করছে এমন কাউকে ফোন করুন এবং আসতে বলুন। অবস্থা খারাপ হলে রোগীকে সমান জায়গায় শুইয়ে বুকের ওপর বারবার চাপ দিতে হবে যাতে হার্টে পাম্প হয়। দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
টিউনটি একটু বড় হয়ে গেল তাই কথা না বাড়িয়ে আজ এখানেই শেষ করলাম । সবাই ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন ।

No comments:
Post a Comment