খাবারের পাশাপাশি রূপচর্চায় বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে মধু। তবে অনেকেরই জানা নেই মধু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম। রূপ সচেতন নারীদের রূপচর্চার জন্য একটি বিশেষ উপাদান হচ্ছে মধু। সবধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী এই মধু । ত্বকের বলিরেখা, পোড়াদাগ, ব্রণের দাগসহ সব ধরনের দাগ দূর করতে সহায়তা করে মধু। এছাড়া ও মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার।
ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে, বলিরেখা কমিয়ে ত্বক টানটান করতে ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে মধুর জুড়ি নেই। পাশাপাশি এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিকর নানান উপাদান। কোনও ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া বিশুদ্ধ
মধু দিয়ে ঘরে বসেই করতে পারেন ত্বকের পরিচর্যা। ত্বকের যত্নে ঠিক কোন ভাবে এবং কতটুকু পরিমাণে মধু ব্যবহার করবেন তা নিয়েই কিছু টিপস:
ত্বকের সোন্দর্যে : মধু এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি বাতাস থেকে জলীয়কণা ত্বকের ভিতরে টেনে নেয় যা ত্বকের গভীরে নমনীয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘসময় ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে মধু দারুণ উপকারী।
নিয়মিত ১ টেবিল-চামচ মধু পরিষ্কার ও শুষ্ক ত্বকে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন । হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে কোমল ও মসৃণ।
জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে: মধুতে আছে এনজাইম যা ত্বক ও লোমের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে। এছাড়া ও মধুতে বিদ্যমান অ্যান্টি ব্যাকটোরিয়াল উপাদান, নারকেল তেল ত্বককে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
২ টেবিল-চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ টেবিল-চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে মিশ্রণটি পরিষ্কার ও শুষ্ক ত্বকে হালকা ভাবে মালিশ করতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহারে : বাহির হতে ফিরে মধু ও আটা মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই প্যাক ব্যবহারে মুখের দাগ দূর হয়ে ত্বক হবে উজ্জ্বল।
প্যাকটি তৈরী করতে কয়েকটি বাদাম পানিতে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। বাদাম পেস্ট করে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। ভাল করে মুখে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করুন।
ত্বকের কালে দাগ দূর করতে : অনেক কারনই ত্বকের মধ্যে দাগ পড়তে পারে যা ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে। মধু দাগ উঠিয়ে ত্বককে করে দীপ্তিময় । ভেতরে থাকা অ্যান্টি ইনফ্ল্যামটরি ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের কালো দাগ দুর করতে এবং কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
এছাড়াও নারকেল বা জলপাইয়ের তেল ত্বকের মরাকোষ দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের হালকা মালিশ রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বক সুস্থ রাখতে ও কোষ গঠনে সাহায্য করে।
১ টেবিল-চামচ মধুর সঙ্গে ১ টেবিল-চামচ নারকেল বা জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে নিতে হবে। ত্বকের যেখানে দাগ বা ক্ষত চিহ্ন আছে সেখানে মিশ্রণটি লাগিয়ে ১-২ মিনিট হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করুন। তারপর ত্বকে গরম তোয়ালে চেপে ধরে রাখুন ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত। প্রতিদিন ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
ব্রন দুর করতে : কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে মোটামুটি সকল বয়সের মানুষের জন্য ব্রণ একটি চিন্তার কারণ। মধুর অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ত্বকের লালচে ভাব কমিয়ে ত্বক ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করবে।
আক্রান্ত স্থানে মধু লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
রোদে পোড়া ভাব কমাতে: মধু ত্বকের গভীরের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে । মধু এবং অ্যালোভেরা দুটোতেই আছে শক্তিশালি অ্যান্টি ইনফ্ল্যামটরি যা রোদে পোড়া ভাব কমায়।
মধুর সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে রোদে পুড়ে যাওয়া জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া ভাব কমে আসবে।
এছাড়া মধুতে রয়েছে পটাশিয়াম যা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে ও ত্বকের অনেক সমস্যা হতে সুরক্ষা করে । এছাড়া ও মধু নিয়মিত খেলে ত্বকের সৌন্দর্য ভিতর থেকে ফুটে উঠবে।


No comments:
Post a Comment