নামাযের মধ্যে রাকয়াত নিয়ে সন্দেহ জেনে নিন তার সঠিক মাসায়েল ! - Bhairab News

sohozbazar.com

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, July 4, 2017

নামাযের মধ্যে রাকয়াত নিয়ে সন্দেহ জেনে নিন তার সঠিক মাসায়েল !


নামাজ পড়ার সময় আমরা একটা ভুল করে থাকি কত রাকাত নামাজ পড়া হয়েছে । এ অবস্থায় কি করব আমরা অনেকেই আছি সঠিক নিয়মটি জানি না । চলুন তাহলে দেখে নিই কোরআন ও সহীহ্ হাদিস অনুসারে ঐ মুহুর্তে কি করা প্রয়োজন......


প্রথম না দ্বিতীয় রাকয়াত এরূপ সন্দেহ হলে

 যদি নামাযের মধ্যে সন্দেহ হয় যে, প্রথম রাকয়াত না দ্বিতীয় রাকয়াত পড়ছি তাহলে যেদিকে মন বেশী ঝুঁকবে সে দিককে গ্রহণ করতে হবে। আর যদি কোন দিকে মন না ঝুঁকে তাহলে এক রাকয়াত ই (অর্থাৎ কমটাই) ধরতে হবে। কিন্তু এই প্রথম রাকয়াতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকয়াত। দ্বিতীয়  রাকাতে ও বসে তাশাহহুদ পড়বে, তৃতীয় রাকাতে ও বসে তাশহহুদ পড়বে, (কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই চতুর্থ রাকায়াত) তারপর চতুর্থ রাকয়াতে সাজদায়ে সাহো করবে। কারও মনে যদি সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকয়াত না তৃতীয় রাকয়াত, তার হুকুমও এরূপ-যদি মন কোন দিকে না ঝুঁকে তাহলে দ্বিতীয় রাকয়াত ধরে নিবে এবং এই রাকয়াতে বসে তাশহহুদ পড়বে এবং এটা বেতর নামায হলে এ রাকাতে ও দুয়ায়ে কুনূত পড়বে। তৃতীয় রাকাতে ও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করবে।




একইভাবে কারও মনে যদি সন্দেহ হয় তৃতীয় না চতুর্থ রাকাত, তাহলে তার হুকুম অনুরূপ-কোন দিকে মন না ঝুঁকলে তিন রাকয়াত ধরে নিবে কিন্তু এই তৃতীয় রাকাতে ও বসে তাশাহহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকয়াতে সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করবে।                                              
 নামায শেষ করার পর সন্দেহ হলে  রাকাত রয়ে গেল কি না?                                                          

 নামায শেষ করার পর কার ও মনে যদি সন্দেহ জাগে যে, এক রাকয়াত কম রয়ে গেল কি না? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য দিবে না, নামায হয়ে গেছে মনে করতে হবে। তবে যদি সঠিকভাবে স্মরণ হয় যে, এক রাকাত কম রয়ে গেছে, তাহলে দাঁড়িয়ে আর এক রাকায়াত পড়ে নিবে এবং সাজদায়ে সাহো সহকারে নামায শেষ করতে হবে। কিন্তু যদি ইতিমধ্যে এমন কোন কাজ করে থাকে যাতে নামায ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমনঃ কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে ফেলা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামায দ্বিতীয় বার পড়তে হবে। প্রথম অবস্থায় ও নতুনভাবে নামায দ্বিতীয়বার পড়ে নেয়া উত্তম, কিন্তু জরুরী নয়।


বিঃদ্রঃ রাকয়াতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হওয়ার ব্যাপার যদি কারও ক্ষেত্রে কদাচিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বরং তাকে নতুন নিয়ত বেঁধে নামায পড়তে হবে।                                                                                                               সাহো করার পরও যদি সাজদায়ে সাহো      ওয়াজিব হওয়ার মত আবার কোন ভূল হয়  
 সাজদায়ে সাহো করার পরও যদি সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হওয়ার মত আবার কোন ভূল হয়ে যায়, তাহলে পুর্নরায় সাহো করতে হবে না পূর্বের সাজদাই যথেষ্ঠ হবে । সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব না হওয়া সত্ত্বে ও যদি কেউ সাজদায়ে সাহো করে, তাহলে নামায হয়ে যাবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ করা ঠিক নয়। সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যদি সাজদায়ে সাহো না করে উভয় সালাম ফিরিয়ে ফেলে, তারপর কোনো কথা বলার পূর্বে বা নামায ভঙ্গ হয়-এমন কোনো কিছু করার পূর্বে সাজদায়ে সাহোর কথা স্মরণ হয়, তাহলে তখনই যদি “আল্লাহু আকবার” বলে সাজদায়ে সাহো করে, তারপর তাশাহহুদ, দুরূদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নেয়, তবুও নামায হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক ভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন ॥

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী । 
পৃষ্ঠা নং- ২৫৩-২৫৫

No comments:

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages