আমাদের দেশের একটি বড় সংখ্যক মানুষের সমস্যা পেটে গ্যাস/গ্যাস্ট্রিক যাকে মেডিকেল ভাষায় বলে পেপটিক আলসার। পেপটিক আলসার/ গ্যাসট্রিক নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া হয়তো মুশকিল হবে। এ রোগ সাধারণ অবস্থা থেকে শুরু করে জীবননাশক ও হতে পারে। এই রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার উভয়ই সম্ভব। আজ আপনাদের সাথে আমি খুবই পরিচিত এই রোগটি নিয়ে কিছু তথ্য শেয়ার করব।
পেপটিক আলসার/গ্যাসট্টিক কিভাবে হয়?
আমাদের পাকস্থলী হলএকটি মাংসল থলি। এর ভেতরের দিকের দেয়াল নরম মিউকাস দিয়ে আবৃত থাকে। পরিপাকের প্রয়োজনে পাকস্থলী শক্তিশালী অম্লরস হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং এনজাইম পেপসিন নিঃসরণ করে। পরিপাক প্রক্রিয়ার সময় এই জারক রস সাধারণত পাকস্থলীর দেয়ালের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। এর কারণ হল মিউকাস আবরণটির একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এপিথেলিয়াল কোষগুলো মিউকাস আবরণের ওপর বাইকার্বোনেট নিঃসরণ করে রাখায় সেখানে একটি ক্ষারীয় পরিবেশ বজায় থাকে। ফলে জারক রস এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। শুধু তাই নয়, কোষগুলো একটি অন্যটির সাথে শক্তভাবে জুড়ে থাকায় এবং উপরিভাগে লিপোপ্রোটিনের আবরণ থাকায় জারকরস সরাসরি কোনও ক্ষতি করতে পারে না। মিউকাস আবরণের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি কোনও কারণে ভেঙে যায় তাহলেই আমাদের পেপটিক আলসার হয়।
কি এই গ্যাসট্রিক/পেপটিক আলসার ?
পাকস্থলী যখন নিজের তৈরি অম্লরস এবং পেপসিন দ্বারা নিজের অথবা পরিপাকতন্ত্রের কোনো স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি করে তখনই এই রোগটিকে গ্যাসট্রিক বা পেপটিক আলসার বলে। এই ক্ষত পাকস্থলীতে হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ভাগ ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলে।
কি কারণে হয় পেপটিক আলসার?
পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হবার একেবারে সঠিক কারণ এখন ও পরিষ্কার না হলে ও কিছু কিছু বিষয়কে পেপটিক আলসার হওয়ার জন্যে দায়ী করা হয়।
যেমন :
১. অতিরিক্ত ধূমপান
২. মদ্যপান
৩. কিছু ব্যথার ওষুধ
৪. হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। শতকরা ৯৫ শতাংশ ডিওডেনাল আলসারের রোগীর এবং অধিকাংশ গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগীর পাকস্থলীতে এই জীবাণুর সংক্রমণ পাওয়া যায় ।
সাধারণত কি কি উপসর্গ দেখা দেয় ?
১: পেটের উপরিভাগে ব্যথা হয়ে থাকে।

২: বেশিরভাগ সময় খালি পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং খাদ্যগ্রহণের পরে ব্যথা কমে যায়। আবার কোনও কোনও সময় দেখা যায় খাবার গ্রহণের পর ব্যথা বাড়ে।
৩: কিছু কিছু দীর্ঘস্থায়ী পেপটিক আলসারের রোগীর ব্যথা শুরু হওয়ার পরপরই বমি হয়।
৫: বমির পর ব্যথা এতোটাই কমে আসে যে, এ সকল ক্ষেত্রে রোগীরা চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক সপ্তাহ হতে মাস পর্যন্ত উপসর্গ বিহীন থাকতে পারে।
৬: রোগ যতই পুরনো হতে থাকে উপসর্গ বিহীন সময় ততো কমতে থাকে এবং আক্রমণের স্থায়িত্ব ও সময় বাড়তে থাকে।
কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন ?
এণ্ডোস্কোপি:

এই রোগে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাটি হচ্ছে এণ্ডোস্কোপি। ফাইবার অপটিক গ্লাসের তৈরি বিশেষ নলের সাহায্যে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের অংশগুলো সরাসরি দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়।
এক্স-রে করা:
অনেক সময় দেখা যায় রোগীকে বেরিয়াম খাইয়ে এক্স-রে করা হয়।
এ রোগ হতে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে?
পেপটিক আলসার/গ্যাসট্রিক দীর্ঘস্থায়ী হলে বা এর সু-চিকিৎসা না হলে অনেক ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
১. ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণের ফলে রোগীর রক্তবমি বা কালো পায়খানা হতে পারে।
২. কিছু ক্ষেত্রে আলসার গভীর থেকে গভীরতর হয়ে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের দেয়াল ফুটো হয়ে যেতে পারে।
এ দুটো অবস্থাতেই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ উপদেশ :
পেপটিক আলসার একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। রোগী বারবার এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই রোগীকে সুস্থ্য থাকতে হলে নিম্নু উক্ত কিছু উপদেশ অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
১. ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
২. মদ্যপান একেবারেই ছেড়ে দিতে হবে।
৩. ব্যথানাশক ওষুধ সাবধানতার সাথে গ্রহণ করতে হবে।
৪. চা-কফি খাওয়া কমিয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন ২-৩ কাপ এর বেশী না খাওয়াই ভাল ।
৫. সঠিক সময়ে নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে।
৬. শুয়ার বা ঘুমানোর ২ ঘন্টা আগে থেকে কিছু খাবেন না
৭. ব্যথার শুরু হলে অনেকেই আছন এন্টাসিডের পরিবর্তে সোডা খেয়ে ফেলেন, যা শরীরের জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে।
চিকিৎসা :
এন্টাসিড, প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর/ এইচ টু রিসিপ্টর ব্লকার, বিসমাথ, সুক্রালফেট, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে পেপটিক আলসারের চিকিৎসায়।
উপরোক্ত তথ্য গুলো অবশ্যই সমসাময়িক ও বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহীত । তবে রোগ নির্ণয় অথবা চিকিত্সার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করবেন ॥
টিউনটি একটু বড় হয়ে গেল আজ এ পর্যন্ত ই কথা না বাডিয়ে এখানেই শেষ করলাম । সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক । সবাই সুস্থ্য থাকুন সুন্দর থাকুন আল্লাহ হাফেজ ।।
পেপটিক আলসার/গ্যাসট্টিক কিভাবে হয়?
আমাদের পাকস্থলী হলএকটি মাংসল থলি। এর ভেতরের দিকের দেয়াল নরম মিউকাস দিয়ে আবৃত থাকে। পরিপাকের প্রয়োজনে পাকস্থলী শক্তিশালী অম্লরস হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং এনজাইম পেপসিন নিঃসরণ করে। পরিপাক প্রক্রিয়ার সময় এই জারক রস সাধারণত পাকস্থলীর দেয়ালের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। এর কারণ হল মিউকাস আবরণটির একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এপিথেলিয়াল কোষগুলো মিউকাস আবরণের ওপর বাইকার্বোনেট নিঃসরণ করে রাখায় সেখানে একটি ক্ষারীয় পরিবেশ বজায় থাকে। ফলে জারক রস এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। শুধু তাই নয়, কোষগুলো একটি অন্যটির সাথে শক্তভাবে জুড়ে থাকায় এবং উপরিভাগে লিপোপ্রোটিনের আবরণ থাকায় জারকরস সরাসরি কোনও ক্ষতি করতে পারে না। মিউকাস আবরণের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি কোনও কারণে ভেঙে যায় তাহলেই আমাদের পেপটিক আলসার হয়।
কি এই গ্যাসট্রিক/পেপটিক আলসার ?
পাকস্থলী যখন নিজের তৈরি অম্লরস এবং পেপসিন দ্বারা নিজের অথবা পরিপাকতন্ত্রের কোনো স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি করে তখনই এই রোগটিকে গ্যাসট্রিক বা পেপটিক আলসার বলে। এই ক্ষত পাকস্থলীতে হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ভাগ ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলে।
কি কারণে হয় পেপটিক আলসার?
পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হবার একেবারে সঠিক কারণ এখন ও পরিষ্কার না হলে ও কিছু কিছু বিষয়কে পেপটিক আলসার হওয়ার জন্যে দায়ী করা হয়।
যেমন :
১. অতিরিক্ত ধূমপান
২. মদ্যপান
৩. কিছু ব্যথার ওষুধ
৪. হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। শতকরা ৯৫ শতাংশ ডিওডেনাল আলসারের রোগীর এবং অধিকাংশ গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগীর পাকস্থলীতে এই জীবাণুর সংক্রমণ পাওয়া যায় ।
সাধারণত কি কি উপসর্গ দেখা দেয় ?
১: পেটের উপরিভাগে ব্যথা হয়ে থাকে।

২: বেশিরভাগ সময় খালি পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং খাদ্যগ্রহণের পরে ব্যথা কমে যায়। আবার কোনও কোনও সময় দেখা যায় খাবার গ্রহণের পর ব্যথা বাড়ে।
৩: কিছু কিছু দীর্ঘস্থায়ী পেপটিক আলসারের রোগীর ব্যথা শুরু হওয়ার পরপরই বমি হয়।
৫: বমির পর ব্যথা এতোটাই কমে আসে যে, এ সকল ক্ষেত্রে রোগীরা চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক সপ্তাহ হতে মাস পর্যন্ত উপসর্গ বিহীন থাকতে পারে।
৬: রোগ যতই পুরনো হতে থাকে উপসর্গ বিহীন সময় ততো কমতে থাকে এবং আক্রমণের স্থায়িত্ব ও সময় বাড়তে থাকে।
কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন ?
এণ্ডোস্কোপি:

এই রোগে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাটি হচ্ছে এণ্ডোস্কোপি। ফাইবার অপটিক গ্লাসের তৈরি বিশেষ নলের সাহায্যে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের অংশগুলো সরাসরি দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়।
এক্স-রে করা:
অনেক সময় দেখা যায় রোগীকে বেরিয়াম খাইয়ে এক্স-রে করা হয়।
এ রোগ হতে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে?
পেপটিক আলসার/গ্যাসট্রিক দীর্ঘস্থায়ী হলে বা এর সু-চিকিৎসা না হলে অনেক ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
১. ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণের ফলে রোগীর রক্তবমি বা কালো পায়খানা হতে পারে।
২. কিছু ক্ষেত্রে আলসার গভীর থেকে গভীরতর হয়ে পাকস্থলী বা ডিওডেনামের দেয়াল ফুটো হয়ে যেতে পারে।
এ দুটো অবস্থাতেই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ উপদেশ :
পেপটিক আলসার একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। রোগী বারবার এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই রোগীকে সুস্থ্য থাকতে হলে নিম্নু উক্ত কিছু উপদেশ অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
১. ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
২. মদ্যপান একেবারেই ছেড়ে দিতে হবে।
৩. ব্যথানাশক ওষুধ সাবধানতার সাথে গ্রহণ করতে হবে।
৪. চা-কফি খাওয়া কমিয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন ২-৩ কাপ এর বেশী না খাওয়াই ভাল ।
৫. সঠিক সময়ে নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে।
৬. শুয়ার বা ঘুমানোর ২ ঘন্টা আগে থেকে কিছু খাবেন না
৭. ব্যথার শুরু হলে অনেকেই আছন এন্টাসিডের পরিবর্তে সোডা খেয়ে ফেলেন, যা শরীরের জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে।
চিকিৎসা :
এন্টাসিড, প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর/ এইচ টু রিসিপ্টর ব্লকার, বিসমাথ, সুক্রালফেট, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে পেপটিক আলসারের চিকিৎসায়।
উপরোক্ত তথ্য গুলো অবশ্যই সমসাময়িক ও বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহীত । তবে রোগ নির্ণয় অথবা চিকিত্সার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করবেন ॥
টিউনটি একটু বড় হয়ে গেল আজ এ পর্যন্ত ই কথা না বাডিয়ে এখানেই শেষ করলাম । সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক । সবাই সুস্থ্য থাকুন সুন্দর থাকুন আল্লাহ হাফেজ ।।

No comments:
Post a Comment